রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ল, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের ঈদ

সরকার সম্প্রতি রেমিট্যান্স প্রেরণের খরচ বৃদ্ধি করেছে। বলা যায়, অনেকটা অস্বাভাবিক হারে।
বালাগঞ্জের করিম মিয়া লন্ডনের এক রেস্টুরেন্টে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করেন। মাস শেষে ১,০০০ পাউন্ড দেশে পাঠান। গত মাসে তার মা পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই মাসে পাঠাতে গিয়ে দেখেন, একই টাকায় মা পাচ্ছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার। ৩,০০০ টাকা গায়েব। কোথায় গেল? ব্যাংকের ফি, এক্সচেঞ্জের কমিশন, আর সরকারের নতুন কারসাজিতে। এটাই এখন লাখ লাখ প্রবাসীর গল্প।

আগে সোনালী, জনতা, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে £২-£৩ চার্জ লাগত, এখন অনেক এক্সচেঞ্জ £৬-£৮ নিচ্ছে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম তো £১০ পর্যন্ত কাটছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের রেট ১২২ টাকা বেঁধে দিয়েছে, কিন্তু খোলা বাজারে ডলার ১২৮ টাকা। অর্থাৎ বৈধ পথে পাঠালে প্রতি ১০০ ডলারে ৬০০ টাকা কম পাচ্ছেন।

সরকার ২% প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে, কিন্তু অনেক ব্যাংক এখন কাগজপত্রের অজুহাতে: এনআইড মিলছে না, নামে ভুল, তখন প্রণোদনা আটকে দিচ্ছে ২-৩ মাস। ফলে কী হচ্ছে? মানুষ বৈধ পথ ছেড়ে দিচ্ছে।
আপনি যখন দেখবেন,

বৈধ পথে ১,০০০ পাউন্ডে পাচ্ছেন ১,৫৩,০০০ টাকা, ৩ দিন লাগে, সাথে এনআইডি, সোর্স অফ ইনকাম দিতে হয়।

আর হুন্ডিতে ১,০০০ পাউন্ডে পাচ্ছেন ১,৬৫,০০০ টাকা, ২ ঘণ্টায় বাড়িতে পৌঁছে যায়, কোনো প্রশ্ন নেই।

তখন আপনি কোনটা নেবেন? পেটের দায়ে মানুষ হুন্ডি নিচ্ছে।
আমরা খবর নিয়ে দেখেছি, লন্ডনের ব্রিকলেন, বার্মিংহামের স্মল হিথ, ইতালির রোম এসব স্থানে এখন প্রকাশ্যে হুন্ডির রেটের মেসেজ ঘুরছে, “Today hundi rate 165, bank 153″। গত ৩ মাসে হুন্ডি ২০% বেড়েছে বলে মানি এক্সচেঞ্জ মালিকরা নিজেরাই স্বীকার করছেন।

গত বছর ২৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। হুন্ডি বাড়লে রিজার্ভ কমবে, ডলার সংকট বাড়বে, আলুর দাম ১০০ টাকা হবে। প্রবাসীর ক্ষতিহুন্ডিতে টাকা আটকে গেলে, প্রতারিত হলে — কোনো বিচার পাবেন না। লন্ডন পুলিশও ধরবে না, বাংলাদেশ পুলিশও না।সরকারের সরকার মুখে বলে “রেমিট্যান্স যোদ্ধা”, কিন্তু কাজে প্রবাসীকে যোদ্ধা নয়, গরু মনে করে — যত পারো দোহন করো।

প্রবাসীরা ভিক্ষা পাঠায় না। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, টাকা পাঠায়। সেই টাকায় দেশের পদ্মা সেতু হয়, মেট্রোরেল হয়। সেই টাকা পাঠানোর খরচ বাড়িয়ে সরকার নিজের পায়ে কুড়াল মারছে। আপনারা খরচ কমান, রেট বাজার অনুযায়ী করুন, প্রণোদনা সাথে সাথে দিন। নয়তো মানুষকে দোষ দেবেন না যদি তারা হুন্ডিতে যায়।

মনে রাখতে হবে, প্রবাসী যখন হুন্ডিতে যায়, সে দেশদ্রোহী হয় না। দেশ তাকে বৈধ পথে থাকতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়।

 

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫