
সিলেটের ওসমানীনগরে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ের থাবায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার শতশত গাছপালা উপড়ে গেছে, ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার পর রবিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ৭০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া এই তীব্র ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো উপজেলা। ঝড়ে শতাধিক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং অন্তত ৫০টি মিটার ভেঙে পড়েছে। এছাড়া ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় শনিবার দুপুর থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ তীব্র পানি সংকটে পড়েন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও চার্জের অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও স্থবির হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা। মোমবাতি বা বিকল্প উপায়ে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঝড়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে হস্তিদুর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল মিয়া বলেন, “প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। কখন আসবে জানি না। পানি সংকটসহ নানা সমস্যায় আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি।”
তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ মিয়া জানান, “ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ঝড় শুরু হলে একটি বিশাল গাছ বিদ্যালয়ের মাঠে উপড়ে পড়ে। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি এবং বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।”
ওসমানীনগর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. নাইমুল হাসান জানান, ঝড়ে উপজেলার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন:
”উপজেলার প্রায় ১০০ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৭টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সচল করা হয়েছে, বাকি এলাকাগুলোতে দ্রুত সংযোগ ফেরাতে আমাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন।”
শনিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্যিক এলাকার কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হলেও গ্রামীণ জনপদগুলো রবিবার বিকেল পর্যন্ত অন্ধকারেই ছিল। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, দ্রুতই পুরো উপজেলায় স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।