
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়। চন্দ্রনাথ রাঠ একটি চলন্ত গাড়িতে ছিলেন। তখন তাকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি গুলি তার গায়ে লাগে। হামলাকারীরা তার গাড়িকে অনুসরণ করছিল এবং গাড়ির গতি কমে আসতেই তারা গুলি চালায়। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িটির বাম দিকের সামনের কাচ গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
চন্দ্রনাথ রাঠ বহু বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজ করছিলেন। তিনি বিজেপি নেতার রাজনৈতিক সমন্বয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। দলের ভেতরে তাকে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। খবর পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে পুলিশ তার সহকারীর মরদেহ রেখেছিল। সূত্র জানায়, হামলায় রাঠের গাড়িচালক বুদ্ধদেবও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম বিধানসভা এলাকায়, যা কলকাতার কাছে অবস্থিত।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী এনডিটিভিকে জানান, হামলার সময় শুভেন্দু অধিকারী গাড়িতে ছিলেন না। তিনি এই ঘটনার তদন্ত সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দিয়ে করার দাবি জানান এবং হামলার পেছনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থাকার অভিযোগ তোলেন। বিজেপি নেতা নিখিল প্রসূন এনডিটিভিকে বলেন, এই ঘটনা বহু বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, তারই প্রতিফলন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
আরেক বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল অভিযোগ করেন, তৃণমূল একটি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, আমরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করব এবং আইনের আওতায় আনব। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এক্সে দেয়া পোস্টে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে, গত তিন দিনে বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতকারীরা ভোট পরবর্তী সহিংসতা চালিয়েছে। দলটি লিখেছে, বুধবার দিবাগত রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রাঠের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে গত তিন দিনে বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতকারীদের চালানো ভোট পরবর্তী সহিংসতায় আরও তিনজন তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মধ্যমগ্রাম আসনে তৃণমূলের রথীন ঘোষ অল্প ব্যবধানে ২,৩৯৯ ভোটে জয় পেয়েছেন। সেখানে বিজেপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল।